রোদের তীব্র দাপট আর ভ্যাপসা গরমে সিলেটে দহনযন্ত্রণা
সিলেটে গেল দু্ইদিনে রোদের তীব্র দাপট আর ভ্যাপসা গরমে থমকে গিয়েছিল জনজীবন। আকাশ যেন এ সময় হয়ে উঠেছিল অগ্নিগোলক, আর চারপাশটা রূপ নিয়েছিল এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডলীর।
দিনের সূর্য যত ওপরে ওঠেছে, ততই যেন আকাশ থেকে ঝরেছে আগুনের ফুলকি। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরীর ব্যস্ত প্রাণস্পন্দন স্তিমিত হয়ে আসে; অলিতে-গলিতে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর পা বাড়াননি ঘরের বাইরে।
তবে যাঁদের অন্নসংস্থানের তাগিদে রোদে পুড়তে হয়, সেই খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এই রৌদ্রদাহ ছিল এক নির্মম অগ্নিপরীক্ষা। জীবিকার চাকা সচল রাখতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর ক্লান্ত শরীর একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য খুঁজে ফিরেছে কোনো তরুছায়া কিংবা দোকানের ছাদ। তৃষ্ণার্ত বুভুক্ষু প্রাণ শীতল জলের খোঁজে ভিড় জমিয়েছে ডাবের হালি কিংবা রাস্তার ধারের শরবতের দোকানে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ কেবল জনজীবনকেই শ্লথ করেনি, বরং ডেকে এনেছে নীরব এক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, এই অসহনীয় তাপদাহে শরীরে থাবা বসাতে পারে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোক। অতিরিক্ত রোদ, অপর্যাপ্ত জলপান এবং একটানা কায়িক পরিশ্রমে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ে, তখনই ঘটে এই বিপত্তি।
এই রুদ্ররোষ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকদের কড়া সতর্কতা—বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হতে হলে মাথায় ছাতা বা টুপি, গায়ে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক এবং সঙ্গে রাখা চাই পর্যাপ্ত জল কিংবা ওরস্যালাইন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অপরিহার্য।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত (শংকর) এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, "খুব প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়াই শ্রেয়। প্রয়োজনে বের হলে অবশ্যই ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করতে হবে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার—যেমন পানি, স্যালাইন, ডাব কিংবা ফলের জুস গ্রহণ করতে হবে। বাইরে যারা কায়িক শ্রম করেন, তাদের অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার এবং যারা indoors বা ঘরে থাকেন, তাদের দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত। যদি কারও মধ্যে হিটস্ট্রোকের ন্যূনতম লক্ষণও দেখা যায়, তবে কালক্ষেপণ না করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।"
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: