আটক ৪
সুনামগঞ্জে আট মাস বয়সী শিশুকে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে ‘হত্যা’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর বাড়ির অদূরে একটি সেপটিক ট্যাংকির ভেতর থেকে শিশুটির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পূর্বশত্রুতার জেরে শিশুটিকে হত্যা করে ট্যাংকিতে ফেলে রাখা হয়েছে এমন সন্দেহে চার প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত শিশুটির নাম আমির হামজা (৮ মাস)। সে লালপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন ও সাবিকুন্নাহার দম্পতির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে শিশুটির মা সাবিকুন্নাহার শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা সাব্বির হোসেনের কাছে রেখে জরুরি কাজে বাইরে যান। সকাল ৭টার দিকে সাব্বির হোসেন ঘুম থেকে উঠে বিছানায় সন্তানকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে অন্য এক প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকিতে সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শী নাঈম মিয়া ট্যাংকির ভেতরে তলিয়ে থাকা শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) মোহন দাসসহ পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় ট্যাংকির ভেতর থেকে শিশু আমির হামজার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চারজন প্রতিবেশীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটকরা হলেন লালপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে মণির হোসেন (৩০), আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মণির হোসেনের মা রাবেয়া বেগম (৫৫) এবং জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আফিয়া বেগম (৩৫)।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নিহত শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয়ে পূর্ববিরোধ চলছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই অবুঝ এই শিশুটিকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম) প্রথম সিলেটকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: