হবিগঞ্জে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

হবিগঞ্জে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২৭/০৭/২০২৬ ১০:৩৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টেন্ডারে অনিয়ম, জালিয়াতি এবং ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হবিগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) হবিগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে সদর উপজেলার রিচি গ্রামের ঠিকাদার মো. জুবাঈদ মিয়া এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— হবিগঞ্জ এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান। অন্য দুই আসামি হলেন টেন্ডারে অংশ নেওয়া দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, এলজিইডির আওতায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী-বুরিনাও সড়কের উন্নয়ন, ইউ-ড্রেনেজ, বক্স কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও কারসাজি করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী বাদীর প্রতিষ্ঠান কাজটি পাওয়ার যোগ্য হলেও টেন্ডার চলাকালে তার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে বঞ্চিত করে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী।

মামলার সাক্ষী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর টিপু আহমেদ জানান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরে 'জামাল এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন এবং রোববার দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। সে সময় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে কাউন্সিলর টিপু আহমেদ দুটি পৃথক লাইসেন্সে টেন্ডার জমা দেন। কিন্তু সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘জামাল এন্টারপ্রাইজ’ কাজটি পায়। টিপু আহমেদের একটি লাইসেন্স দ্বিতীয় ও অন্যটি তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তাছাড়া তার একটি লাইসেন্সের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি বিধান অনুযায়ী ২০ লাখ টাকার টেন্ডার সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তার বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে এলজিইডির নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী জুম্মন শাহ জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নন।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad