হবিগঞ্জে খাল খননে অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে দিলেন ইউএনও

হবিগঞ্জে খাল খননে অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে দিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২৬/০৭/২০২৬ ১৮:২০:২০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে অব্যবহৃত ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম। 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সদস্য মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ‘কাজের শুরু থেকে মনিটরিং, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকার কারণে এমনটি সম্ভব হয়েছে। এটি একটি উদাহরণ, এই উদাহরণ দেশের মানুষ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষেত্রে চায়।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুড়িয়াউক ইউনিয়নের কালিয়াদারা-তেঘরিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৩ হাজার ৬৯০ টাকা। 

অন্যদিকে, সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। দুটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা। ফলে, অব্যবহৃত থাকে ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে শ্রমিকদের বিল বাবদ ৮ লাখ টাকার বেশি এবং কালিয়াদারা-তেঘরিয়া খাল প্রকল্পে প্রায় ৬ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকে। এছাড়া প্রকল্পের অন্যান্য খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ যুক্ত হয়ে মোট ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা চলতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খাল পুনঃখনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ রাখা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে যারা কাজ করেছেন, কেবল তাদেরই মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। একইভাবে মাঠপর্যায়ে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, শুধুমাত্র ততটুকু কাজের বিলই দেওয়া হয়েছে। কাগজে কলমে শ্রমিক দেখিয়ে কিংবা কাজ না করেই বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হয়নি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘সরকারি অর্থ দেশের জনগণের আমানত। তাই শতভাগ যাচাই বাছাই শেষে কাজ বুঝে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় পরিশোধ করা হয়েছে।’

মুরাদ ইসলাম শনিবার বলেন, ‘প্রকল্পের শুরু থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, পিআইওসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।’

স্থানীয় প্রশাসনের এ উদ্যোগ সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad