সিলেটে প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও অ্যাসিড হামলা

সিলেটে প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও অ্যাসিড হামলা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৬/০৭/২০২৬ ১৯:২৪:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রবাসী পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, জাল দলিল তৈরি এবং সম্পত্তির কেয়ারটেকারের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ওপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ এনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. মুসা খান শিমুল। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।


লিখিত বক্তব্যে মুসা খান শিমুল বলেন, ‘‘আমরা প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি। কিন্তু দেশে থাকা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের জন্য একটি ভূমি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’’


তিনি জানান, তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগলাবাজার থানার পাঠানপাড়া খান বাড়ির মৃত অ্যাডভোকেট আসলাম খানের সন্তান। পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে থাকায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সঞ্জবপুর এলাকার মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. এমরান মিয়াকে তাদের সম্পত্তির কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর মৌজায় থাকা তাদের প্রায় ৩৩৭ শতক জমির মধ্যে ১১৫ দশমিক ৫ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র। এ চক্রের সদস্যরা জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে নামজারিও সম্পন্ন করেছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১১ সালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং ২০১৩ সালে অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) আদালত ওই নামজারি বাতিলের আদেশ দেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই ভূমি আপিল বোর্ডে করা মামলাটিও নথিজাত হয়।


আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন মুসা খান শিমুল। তিনি জানান, জিয়াউর রহমান ও মাসুদ কাজীর যোগসাজশে কেয়ারটেকার এমরান মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম ও তার ১১ বছর বয়সী সন্তানের ওপর অ্যাসিড হামলা চালানো হয়। গত ১৩ মে রাতের এই হামলায় খাদিজা বেগম গুরুতর দগ্ধ হন এবং চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তার একটি পা কেটে ফেলতে হতে পারে।


এ ঘটনায় গত ১৪ মে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ প্রবাসীর। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে কেয়ারটেকার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। গত ১৫ জুলাই অ্যাসিড হামলা মামলার ২ নম্বর আসামি রাসেল আহমদ ও তার সহযোগীরা এমরান মিয়াকে মামলা তুলে নিয়ে সিলেট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে মুসা খান শিমুল অবিলম্বে অ্যাসিড হামলার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad