ছাতকে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের জেরে দু'পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরগাঁতি-নোয়াগাঁও এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) দুপুরে মুনিরগাঁতি-নোয়াগাঁও এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির চলমান একটি সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং এ সময় ঠিকাদার সেবুল মিয়ার কাজের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভ চলছিল। সংবাদকর্মীরা স্থান ত্যাগ করার মূহূর্তে মৃত মনফর আলীর পুত্র ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রপু মিয়ার ভাই কিরণ মিয়া এবং আমতর আলীর পুত্র ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য লিয়াকত মিয়ার মধ্যে এ নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কিরণ মিয়া (৪০), কাওসার আহমদ (২৫), রহমত আলী, আহমদ আলী (২৮), নুর আলী (৫৫), রুয়েল আহমদ (২০), আকরাম আলী (২২), লিয়াকত আলী (৪২), রফিক মিয়া, উকিল মিয়া (৩০) ও জুনেদসহ (৩০) অন্তত ১৫ জন জখম হন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর পাঁচজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আখলু মিয়া দাবি করেন, সাংবাদিকরা রাস্তার কাজ পরিদর্শনে গেলে তাঁর ভাই কিরণ মিয়া সেখানে সাধারণ নাগরিক হিসেবে উপস্থিত হন, কিন্তু লিয়াকত মিয়া হঠাৎ তাঁকে উসকানিমূলক গালিগালাজ করলে তার প্রতিবাদ করতে গিয়েই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অপরদিকে লিয়াকত আলী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা এলে আওয়ামী লীগ নেতা কিরণ মিয়া তাদের পেশাগত কাজে ও কথাবার্তায় অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দেন এবং পরবর্তীতে দলবল নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রপু মিয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় না থাকায় বিস্তারিত এখনো জানেন না, তবে খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন। দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মুনিরগাঁতিতে সড়ক নির্মাণ নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষের খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে; এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুজন তালুকদার/এআর
মন্তব্য করুন: