সিসিক নির্বাচন : ২২ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাঠে ৮ প্রার্থী

সিসিক নির্বাচন : ২২ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মাঠে ৮ প্রার্থী

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩০/০৫/২০২৬ ১৬:০০:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ২২ নম্বর ওয়ার্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই ওয়ার্ডে রয়েছে নানা নাগরিক সংকট।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং মাদক ও অসামাজিকতার অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিকে নগরের একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ‘নিরাপত্তার মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুভেচ্ছা সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভেতরে-ভেতরে পুরোদমে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।


সর্বশেষ সিসিক নির্বাচনে এ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর বিজয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ সেলিম। তবে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বলা হচ্ছে।


তফসিল ঘোষণার আগেই ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অন্তত আটজনের নাম বেশ জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন—বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জাফর ইকবাল তারেক (এপিপি),ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ অজি মো. কাওছার, শাহজালাল উপশহর কল্যাণ পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার হোসেন রুবেল,

আশফাক চৌধুরী জামি, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল ইসলাম মুহিব, সাবেক ছাত্রদল নেতা বদরুল ইসলাম রানা,সোহেল আহমদ ও নুরুল আলম।


এ ছাড়া আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নীরবে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডটি অভিজাত এলাকা হলেও পুরো ওয়ার্ড এখনো অনেকটাই অরক্ষিত। মাদক ব্যবসায়ী ও অসামাজিক কার্যক্রমের কারণে নারীরাসহ সাধারণ বাসিন্দারা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা এখানকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। তাই এবার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পোস্টার বা প্রচারণাকে নয়; বরং সততা, জনসম্পৃক্ততা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা-সড়ক উন্নয়নসহ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দেবেন ভোটাররা। তরুণদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রার্থীরা কী ভূমিকা রাখবেন, তা জানতে চান এলাকাবাসী।


এ ব্যাপারে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, সামাজিক সংগঠক ও শাহজালাল উপশহর কল্যাণ পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক দিদার আহমদ রুবেল বলেন, "প্রায় এক দশক ধরে ২২ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর কল্যাণে কাজ করছি। অভিজাত এলাকা হিসেবে উপশহরের যে সুনাম ও গৌরব রয়েছে, তা রক্ষায় বিগত দিনেও সব অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। নির্বাচিত হতে পারলে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ২২ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে আমার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।"তিনি তাঁর এই অব্যাহত যাত্রায় ওয়ার্ডবাসীর দো’আ ও সহযোগীতা কামনা করেন।

তাহির আহমদ / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: