মেধা ও দক্ষতার অনন্য স্বীকৃতি পেলেন শাল্লার চার শিক্ষক
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কঠোর যাচাই বাছাই ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে চূড়ান্তভাবে এই গৌরবময় পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
শ্রেণিভিত্তিক ও প্রশাসনিক ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত চার শ্রেষ্ঠ আলোর দিশারী হলেন,শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক পুরুষ, অসীম কান্তি সিংহ প্রধান শিক্ষক, চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মহিলা, কানন বালা সরকার প্রধান শিক্ষক, কান্দি গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নারী শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যালয়কে আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলায় বিশেষ অবদানের জন্য। শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক পুরুষ, সীমান্ত তালুকদার সহকারী শিক্ষক, শান্তি পুর ইসমাইল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেণিকক্ষে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান এবং ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য। শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মহিলা, শাহীনূর আক্তার সহকারী শিক্ষক, ঘুঙ্গিয়ার গাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিশেষ অবদানের জন্য।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা হয়েছে। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনই নয়, বরং শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, সৃজনশীল শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের গুণগত পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। যারা আজ এই গৌরবময় পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। আমাদের বিশ্বাস, এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অন্য শিক্ষকদেরও নিজ দায়িত্বে আরও বেশি অনুগত, আন্তরিক ও অনুপ্রাণিত হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
এই গৌরবময় অর্জনে নির্বাচিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সচেতন মহলের মতে, দুর্গম ও হাওরবেষ্টিত শাল্লা অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মানকে আরও সুদূরপ্রসারী, আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে এই শিক্ষকেরা আগামী দিনেও অগ্রণী ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।
উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, শীঘ্রই একটি জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক উৎসবের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে সম্মাননা পদক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হবে।
প্রীতম দাস/এ রহমান
মন্তব্য করুন: