এমপির উন্নয়ন কমিটিতে যুবলীগ নেতা, মাধবপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
হবিগঞ্জ-৪ আসনের এস এম ফয়সল–এর ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন এক যুবলীগ নেতা। এমন ঘটনায় মাধবপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
কমিটিতে স্থান পাওয়া ওই নেতার নাম মৃণাল কান্তি বিশ্বাস। তিনি উপজেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাকে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা গেছে এবং গত জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ সদস্যের উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পর্যাপ্ত নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মধ্যে।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে “নিরপেক্ষ উন্নয়ন উদ্যোগ” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি রাজনৈতিক কৌশল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস এম রুবেল ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লেখেন, “এত মানুষ থাকতে কেন একজন আওয়ামী লীগের লোককে বিএনপির একজনের জায়গায় রাখা হলো?”
অন্যদিকে শ্রমিক লীগ নেতা সৈয়দ হাবিবুর রহমান বলেন, “সংখ্যালঘুদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হয়তো তাকে রাখা হয়েছে। আমাদের দলের আরও অনেকে আছে, তাদের কেন রাখা হলো না?”
তবে বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম বলেন, “ব্যক্তি বিবেচনায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে সে আমাদের সহযোগিতা করেছে, সভা-সমাবেশেও বক্তব্য দিয়েছে—এতে দোষের কিছু দেখি না।”
অভিযোগের বিষয়ে মৃণাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, উন্নয়ন কমিটিতে থাকা রাজনৈতিক বিষয় নয়। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এমপি সাহেবকে সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। এখানে হিংসার কিছু নেই।”
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন কমিটিকে ঘিরে এমন বিতর্ক মাধবপুরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: