হবিগঞ্জে ত্রিপুরা পল্লীতে টিলা ধস: অনিশ্চয়তায় ২৪টি পরিবার
Led Bottom Ad

হবিগঞ্জে ত্রিপুরা পল্লীতে টিলা ধস: অনিশ্চয়তায় ২৪টি পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুনারুঘাট

১২/০৫/২০২৬ ২০:৪৬:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

 হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহিন অরণ্যে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ছড়ার তীব্র ভাঙনে ধসে পড়ছে তাদের বসবাসের একমাত্র টিলাটি। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভূমিধসে ইতিমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির এক পাশ ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন।

পল্লীর বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টিলার মাটি ছড়ায় ধসে পড়ে। ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা আক্ষেপ করে বলেন, “স্বাধীনতার পর বন বিভাগের অনুমতিতে আমরা এখানে বসবাস শুরু করি। ছোটবেলায় যে ছড়াগুলো ছোট দেখেছি, সেগুলো এখন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। টিলা রক্ষার চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।” তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ২০১৭ সাল থেকে বড় ধরনের ধস শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে ৫টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়াল বা কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো টিলাটিই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে গ্রামবাসীকে বিকল্প দুর্গম পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে, যা অসুস্থ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদি হাসান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ত্রিপুরা পল্লীসহ বিভিন্ন টিলা ও গাছপালা ধসে পড়ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টিলা সংরক্ষণ ও প্রাচীর নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এর জন্য বড় ধরনের সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজন।” এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, ত্রিপুরা পল্লী রক্ষায় টিলা মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। আপাতত উপজেলা প্রশাসন পল্লীবাসীর সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad