স্থবির ব্যবসা-বাণিজ্য
সিলেট চেম্বার অব কমার্সে দুই বছর ধরে নেতৃত্বশূন্যতা
সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গত দুই বছর ধরে কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা না দেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চেম্বার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সভাপতিসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ালে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসক নিয়োগ করা হলেও নির্বাচিত নেতৃত্বের অভাব পূরণ হয়নি। গত ৪ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১ নভেম্বর ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। উচ্চ আদালত পরবর্তীতে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত নির্বাচন করার নির্দেশ দিলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে কোনো জোরালো প্রতিনিধিত্ব নেই। সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, "নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যাগুলো সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে পারছেন না। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন বিলম্বিত হওয়া রহস্যজনক।" সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, "ব্যবসায়ীরা এখন দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছেন না, দ্রুত নির্বাচন ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটবে না।"
চেম্বারের বর্তমান প্রশাসক পিনকি সাহা জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু প্রশাসনিক জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না আসায় তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন না করলে সিলেটের বাণিজ্যিক পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: