চায়ের দাওয়াতে ডেকে হেনস্তা: শান্তিগঞ্জের সেই ঘটনা এবার আদালতে
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সাংবাদিক ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এবার আদালতের কাঠগড়ায় উঠেছেন দুই সাংবাদিকসহ সাতজন। গত ১০ মে (রবিবার) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মানহানি মামলাটি দায়ের করেন ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সংবাদকর্মী মোঃ আবু সঈদ।
মামলায় সাংবাদিক ফয়জুল ইসলাম সোহেল তালুকদার ও রায়হান আহমদসহ মোট ৭ জনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ এপ্রিল। উপজেলার খাই হাওরের মাটি কাটা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জেরে একটি পক্ষের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওইদিন শান্তিগঞ্জ বাজারের একটি ইলেকট্রনিক্স শোরুমে সাংবাদিকদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে ডেকে নেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ছিল একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ’। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা ও হেনস্তা করা হয় এবং কৌশলে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদী মোঃ আবু সঈদ অভিযোগ করেছেন, হেনস্তার পর গত ৭ ও ৮ এপ্রিল সাংবাদিক সোহেল তালুকদারের পরিচালিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সুনামগঞ্জ নিউজ’ এবং আসামিদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একের পর এক মানহানিকর সংবাদ ও পোস্ট শেয়ার করা হয়।
বিশেষ করে “শান্তিগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন থেকে আবু সঈদকে বহিষ্কার” শিরোনামে প্রচারিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বাদী। তিনি জানান, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই এই অপপ্রচার চালিয়েছে।
মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়জুল ইসলাম সোহেল তালুকদার ও রায়হান আহমদ ছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন হরিনগরের আব্দুর রহমান জামী, শত্রুমর্দনের রনজিৎ সূত্রধর, বাগেরকোনার লিটন আহমদ, মির্জাপুরের আবুল হোসেন এবং নগর এলাকার অমিতাভ দাস।
মামলা বাদি মোঃ আবু সঈদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমাদের পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের সাথে জড়িত আবু সঈদের এই মামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পর আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতাকে নিন্দনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: