বাঁধ কেটে ধান রক্ষার দাবি কৃষকদের
সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কমলেও হাওরে স্থবিরতা
গত ছয় দিনের তীব্র রোদে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানির উচ্চতা আড়াই থেকে তিন ফুট কমলেও ভরাট হয়ে থাকা হাওরগুলোর পানি সেভাবে কমছে না। কৃষকদের দাবি, হাওর থেকে নদীর পানি এখন অনেকটা নিচে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে হাওরের পানি নদীতে নামানোর সুযোগ করে দিলে ডুবে থাকা পাকা ধানের অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
সোমবার বিকেলে দেখার হাওর সংলগ্ন মহাসিং নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানির স্তর হাওরের পানির চেয়ে অন্তত দুই হাত নিচে রয়েছে। নদীপাড়ের খেয়া মাঝি রফিক মিয়া জানান, ছয় দিন আগে নদীর পানি যে উচ্চতায় ছিল, এখন তা অনেক নিচে নেমেছে। কিন্তু হাওরের পানি না কমায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। শান্তিগঞ্জের আস্তমা গ্রামের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম বলেন, "পাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি বের করতে না পারলে সব ধান পচে নষ্ট হয়ে যাবে। বুকসমান পানি হলেও কৃষকরা কষ্ট করে কিছু ধান কেটে আনতে পারত।"
একই দাবি জানিয়েছেন শাল্লা উপজেলার কৃষকরাও। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছত্তার মিয়া জানান, ভেড়াডহর হাওর থেকে দাড়াইন নদীর পানি বর্তমানে আড়াই ফুট নিচে আছে। কান্দিগাঁও ও চ্যাপটার হাওরের বাঁধ কেটে দিলে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ হেক্টর জমির ধান রক্ষা করা সম্ভব। এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, বিকেলে সরজমিনে পরিদর্শন করে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, বর্তমানে নদীতে পানি কম থাকায় বাঁধ কেটে হাওরের পানি বের করে দিলে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যদি এতে কৃষকরা প্রকৃতই উপকৃত হন, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক নেতারা মনে করছেন, সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ধান পচে গিয়ে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: