ফেসবুক প্রেমে ঘরছাড়া দুই তরুণী, তাহিরপুরে তোলপাড়
ফেসবুকের ভার্চুয়াল পরিচয়। ইনবক্সে দীর্ঘ আলাপ। ধীরে ধীরে তৈরি হয় গভীর সম্পর্ক। সেই টানেই শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নরসিংদী থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছুটে আসেন এক তরুণী। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পুরো এলাকায় তুমুল আলোচনা, কৌতূহল আর চাঞ্চল্য।
ঘটনাটি ঘটেছে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর চারাগাঁও গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে নরসিংদীর আরেক তরুণীর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, গত সোমবার ভালোবাসার টানে নরসিংদীর তরুণী সোজা হাজির হন তাহিরপুরে।
এরপর দুজন একসঙ্গে বাড়ি ছাড়লে বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হয়ে যায়। পথিমধ্যে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাঁদের আচরণে সন্দেহ হলে আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত হন।
ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই চারাগাঁও গ্রামে যেন শুরু হয় আলোচনা আর ফিসফাসের ঝড়। চায়ের দোকান থেকে বাজার, উঠান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন একটাই আলোচনার বিষয়, “নরসিংদী থেকে আসা সেই তরুণী”।
স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগে তাহিরপুরের তরুণীকে পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নরসিংদীর তরুণীকেও ফিরে যেতে বলা হয়। কিন্তু নাটকীয় মোড় আসে পরদিন সকালে। মঙ্গলবার আবারও চারাগাঁও গ্রামে ফিরে আসেন ওই তরুণী। স্থানীয়দের দাবি, তিনি তাঁর সঙ্গীকে ছাড়া ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং একসঙ্গে থাকার ইচ্ছার কথা জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ বলছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত সম্পৃক্ততা নতুন ধরনের সংকট তৈরি করছে।
অভিভাবকদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মোবাইল আর ফেসবুক এখন সন্তানদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
আর এইচ মুন্না
মন্তব্য করুন: