মাধবপুরে শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরিতে দিশেহারা কৃষক
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বোরো মৌসুমে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তীব্র শ্রমিক সংকট, অতিরিক্ত মজুরি এবং সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের পাকা ধান কাটা নিয়ে উপজেলাজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। অনেক এলাকায় ধান পেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হলেও শ্রমিকের অভাবে তা কাটতে পারছেন না চাষিরা।
সরেজমিনে শাহজাহানপুর, বাঘাসুরা, জগদীশপুর, আদাঐর ও ধর্মঘরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ পাকা ধান দোল খাচ্ছে। কৃষকরা জানান, আগে স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অধিকাংশ শ্রমিক শিল্পকারখানা ও ইটভাটায় চলে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এর ওপর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটা আরও দুরূহ হয়ে পড়েছে। বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, এক বিঘা জমির ধান কাটতেই এখন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে চৌমুহনী এলাকার কৃষক সমুজ আলীর মতে, বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হলেও বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি মাত্র ৭০০-৮৫০ টাকা, যা চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, এ বছর ফলন ভালো হলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু এলাকায় ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটলে সময় ও খরচ দুই-ই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে নিচু জমিতে যেখানে মেশিন পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানকার কৃষকদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: