পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল লেবার পার্টি
রাজনৈতিক সংকটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২০ মাসের মাথায় চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নিজের দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ায় তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। সোমবার (১১ মে) দলের ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং ক্যাবিনেটের শীর্ষ মন্ত্রীরা তাঁকে বিদায়ের সময়সীমা নির্ধারণের জন্য চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবার পার্টির প্রায় ২৫ শতাংশ এমপি মনে করেন যে আগামী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন স্টারমার। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, টম রুটল্যান্ড ও নওশাবা খানসহ চারজন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) ইতিমধ্যে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জন হিলি ও ডেভিড ল্যামির মতো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা একটি ‘মর্যাদাপূর্ণ’ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খোঁজার পরামর্শ দিলেও রিচার্ড হার্মারসহ কয়েকজন মন্ত্রী এখনও স্টারমারকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে এই চাপের মুখেও সোমবার এক ভাষণে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন স্টারমার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কনজারভেটিভদের মতো নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়লে দেশ লেবার পার্টিকে ক্ষমা করবে না।
এদিকে কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এমনকি ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও বার্নামের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করছে, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে কট্টর ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজ রাজনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিতব্য ক্যাবিনেট বৈঠকটি কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তিনি কি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন নাকি বিদায়ের পথ বেছে নেবেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: