২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে জটিলতা, বাংলাদেশে টিভি দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩৩ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, ঘরে বসে খেলা দেখার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। চড়া মূল্য এবং প্রতিকূল সময়ের কারণে দেশের কোনো টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টটির সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ঘরের মাঠে এবারের আসর দেখা যাবে তো?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কাছে ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা) দাবি করেছে। এর সাথে কর ও ভ্যাট যুক্ত হলে মোট খরচ প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। শর্ত অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থের ৫০ শতাংশ ১০ মে’র মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল, যা বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অসম্ভব বলে মনে করছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি পর্যায়ে এই মুহূর্তে স্বত্ব কেনার পরিকল্পনা নেই। তবে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালে সরকার তা বিবেচনা করতে পারে।
সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে বেসরকারি মাধ্যমগুলোর অনীহার পেছনে বড় কারণ হলো বিজ্ঞাপন আয়ের অনিশ্চয়তা এবং সময়ের ব্যবধান। এবারের আসরের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৫২টি ম্যাচই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে শেষ হবে এবং বাকি ৫২টি শুরু হবে ভোর ৪টার পর। এই সময়ে দর্শকদের উপস্থিতি কম থাকার আশঙ্কায় কাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টি স্পোর্টসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কম দামে স্বত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও স্প্রিংবক তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বিটিভি, টি স্পোর্টস ও টফির মাধ্যমে দর্শকরা খেলা দেখতে পারলেও এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধু বাংলাদেশ নয়, একই ধরনের সম্প্রচার জটিলতায় পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনও। সময় ফুরিয়ে আসলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে দেশের ফুটবল মহলে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: