শহর থেকে গ্রামে স্থানান্তর
রোগীদের নাগালের বাইরে সিলেটের জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলি ইউনিয়নের অতিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ এখন আধুনিক অবকাঠামো আর জৌলুস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। একসময় নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল জেলার গর্ভবতী নারী ও শিশুদের আস্থার জায়গা। কিন্তু ২০০৫ সালে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এটি শহর থেকে দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে এর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর সিলেটের সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ভবন ও আধুনিক টাইলস সজ্জিত এই হাসপাতালে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ২০ শয্যার ওয়ার্ডগুলো পরিপাটি থাকলেও রোগী নেই বললেই চলে। অথচ ২০০২-২০০৩ সালের দিকে যখন এটি মদিনা মার্কেটে ছিল, তখন স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) জন্য ওসমানী হাসপাতালের বিকল্প হিসেবে এটি ছিল প্রধান ভরসা। ২০০৫ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর উদ্যোগে দক্ষিণ সুরমার তেতলীতে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে এটি স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জনস্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক ‘কৃতিত্ব’কে প্রাধান্য দিয়ে এটি শহর থেকে গ্রামে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সিলেট বিভাগের অন্য সব জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র শহরে অবস্থিত হলেও কেবল সিলেটেরটিই অবস্থান করছে উপজেলা পর্যায়ে।
হাসপাতালটিতে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের চিত্রও ভয়াবহ। ২০১৩ সাল থেকে চালক না থাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এনেস্থেটিস্ট না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। এমনকি গত ১০ মাস ধরে নেই প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ। মেডিকেল অফিসার ইশরাত জাহান খান জানান, বর্তমানে দিনে ৭০-৮০ জন রোগী এলেও তারা মূলত পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসেন। মাসে গড়ে মাত্র ১৫-২০টি নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে এখানে।
শহরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, জেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালটি শহরের ভেতরে থাকলে যাতায়াতের সুবিধা হতো এবং বিশেষজ্ঞ সেবার মান বাড়ত। গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ এর অস্তিত্ব সম্পর্কেও ঠিকমতো জানে না। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, জেলা পর্যায়ের এমন কেন্দ্র সাধারণত শহরের ভেতরেই থাকে, তবে এটি কেন দূরে নেওয়া হয়েছিল তা তাঁর জানা নেই। সিলেটের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও নাগরিক সমাজ এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রটি পুনরায় শহরের সুবিধাজনক স্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: