অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে সবজির ব্যাপক ক্ষতি, বাজারে আগুন
সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে বোরো ধানের পাশাপাশি মৌসুমি সবজিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একদিকে খেতেই পচে যাচ্ছে সবজি গাছ, অন্যদিকে এর প্রভাবে বাজারে সবজির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জের বাজারে প্রতি কেজি সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামের চিত্র অত্যন্ত করুণ। কৃষক বাচ্চু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী শাহানা বেগমকে দেখা গেল অতিবৃষ্টিতে মরে যাওয়া বেগুন গাছ উপড়ে ফেলছেন। বাচ্চু মিয়া জানান, ৩০ শতাংশ জমিতে বেগুন, ৩০ শতাংশে উচ্ছে ও ৩৮ শতাংশে ঢ্যাঁড়শ আবাদ করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ফলন ভালো হলে ৩ লাখ টাকার সবজি বিক্রির স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, কিন্তু সবজি আসার শুরুতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর সব স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের করম আলী শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে কাঁচামরিচ ও বরবটির খেত হারিয়ে এখন দিশেহারা।
সবজি ব্যবসায়ীদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাইরের জেলা থেকে সবজি আনতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে। ১৫ দিন আগে যে টমেটো ২০ টাকা ছিল, তা এখন ৮০ টাকা; ২০ টাকার বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। শুধু সবজি চাষিরাই নন, লোকসানের মুখে পড়েছেন বীজ ব্যবসায়ীরাও। সুনামগঞ্জ শহরের রুমানা বীজ ভাণ্ডারের মালিক রমজান আলী জানান, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা নতুন করে চাষাবাদে আগ্রহী না হওয়ায় বীজ বিক্রি পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টিতে গাছের গোঁড়া পচন রোধে কৃষকদের বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের কাছে সবজি চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো পৌঁছায়নি। জেলায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে খরিফ মৌসুমের সবজি আবাদ হলেও জলাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: