প্রবাসে থেকে ১০ বছরেই পুরো কোরআন মুখস্থ কুলাউড়ার রেদোয়ানের
জগৎজোড়া ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতার শহর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। যেখানে প্রবাসজীবনের অন্তহীন ব্যস্ততায় হারিয়ে যায় কত শত চেনা শৈশব। কিন্তু সেই দূর পরবাসের বুকে থেকেও এক ১০ বছরের শিশু দেখাল পরম আলোর পথ। সমস্ত জাগতিক মোহকে পেছনে ফেলে, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ে পবিত্র কোরআনের ৩০টি পারা সম্পূর্ণ মুখস্থ (হিফজ) করে হাফেজ হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কনিষ্ঠ শিশু রেদোয়ান। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই পুণ্যময় কীর্তি এখন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বাঙালি মুসলিম কমিউনিটির চোখ জুড়াচ্ছে, হৃদয় জুড়াচ্ছে এক স্বর্গীয় অনুভূতিতে।
হাফেজ রেদোয়ান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বালিচিরি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা বুরহান উদ্দিন ও শামিমা বেগম দম্পতির ছেলে। বর্তমানে তাঁরা সপরিবারে নিউইয়র্ক শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুদূর প্রবাসের মাটিতে থেকেও মা-বাবা তাঁর সন্তানের অন্তরে বুনে দিয়েছিলেন ইসলামের শাশ্বত আলো। আর সেই আলোর মশাল জ্বালিয়ে নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘দারুসসুন্নাহ নিউইয়র্ক মাদ্রাসা’ থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠা, রাতজাগা অধ্যাবসায় আর ঐশ্বরিক মেধার স্বাক্ষর রেখে এই অভাবনীয় কৃতিত্ব অর্জন করে ছোট্ট রেদোয়ান।
সাধারণত পূর্ণাঙ্গ পবিত্র কোরআন হিফজ করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও, ১০ বছরের এই শিশুটি দুই বছরেরও কম সময়ে আল্লাহর কালাম নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছে। রেদোয়ানের হাফেজ হওয়ার এই আনন্দবার্তা যখন আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তাঁর চেনা গাঁ কুলাউড়াতে পৌঁছায়, তখন বালিচিরি গ্রামসহ পুরো উপজেলায় যেন আনন্দের এক পবিত্র জোয়ার বয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী এই খুশিতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “বিদেশের মাটিতে আমাদের মৌলভীবাজারের একটি ছোট্ট সন্তান এত অল্প বয়সে পবিত্র কোরআন বুকে ধারণ করেছে, এটি যে কত বড় নেয়ামত ও গর্বের, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রবাসের সংস্কৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুদের জন্য রেদোয়ান এখন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।”
নিজের কলিজার টুকরো সন্তানের এই মহিমান্বিত সাফল্যে অশ্রুসিক্ত চোখে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানিয়েছেন বাবা মাওলানা বুরহান উদ্দিন ও মা শামিমা বেগম। তাঁরা চোখের মণি রেদোয়ানের ভবিষ্যৎ জীবনের পথচলা যেন ইসলামের আলোয় আরও সুন্দর হয়, সে জন্য দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানের কাছে দোয়া চেয়েছেন। প্রবাসে থেকেও সন্তানদের দ্বীনের আলোয় আলোকিত করার এই মহৎ দৃষ্টান্ত অন্য সকল প্রবাসী পরিবারের হৃদয়ে এক গভীর ও অনুকরণীয় বার্তা দিয়ে গেল।
মীর্জা ইকবাল/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: