সিলেটে ‘বাঁশ বেড়’ ও হাতের ইশারায় চলছে মধ্যযুগীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা
Led Bottom Ad

৩০ লাখ টাকার ট্রাফিক বাতি উধাও

সিলেটে ‘বাঁশ বেড়’ ও হাতের ইশারায় চলছে মধ্যযুগীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা

প্রথম ডেস্ক

১৯/০৫/২০২৬ ১১:২৩:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আধুনিক নগরায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এসেও সিলেট মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা এখনও আদিম ও মধ্যযুগীয় পদ্ধতির ওপর থমকে আছে। প্রায় ৩০ বছর আগে শহরের তীব্র যানজট নিরসনে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগনাল বাতি স্থাপন করা হলেও, উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি দিনের জন্যও সেগুলো নগরবাসীর কোনো কাজে লাগেনি। কালক্রমে সিলেট পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে (সিসিক) রূপান্তর এবং শহরের প্রভূত দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও, সিলেট নগরীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও চলছে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা এবং কাঠের বাঁশের ব্যারিকেডের ওপর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় নগরীর ব্যস্ততম যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যথাক্রমে—চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানায় ট্রাফিক সিগনাল বাতি স্থাপন করা হয়েছিল; কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও চরম উদাসীনতায় বর্তমানে সিলেট নগরীতে এই ৩০ লাখ টাকার বাতিগুলোর কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব বা চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। বর্তমানে নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রতিদিন শিফট অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের মধ্যেও হাত উঁচিয়ে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং যেসব এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি, সেখানে হাতের ইশারা ফলপ্রসূ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাঁশ বা লোহার ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকাতে হচ্ছে, যা স্থানীয় মহলে ‘বাঁশ বেড়’ পদ্ধতি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

এই বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রকৌশল শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুরুতে ট্রাফিক পুলিশের আপত্তি, অর্থাভাব ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাতিগুলো চালু করা যায়নি এবং পরবর্তী সময়ে সিসিকের সড়কবাতি শাখার অধীনে এটি সংস্কার ও পরিচালনার জন্য বাজেটে খাত রাখা হলেও মূলত সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় এই আদিম ট্রাফিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "সিলেটের মতো একটি বড় ও আন্তর্জাতিক মানের শহরে ডিজিটাল সিগনাল বাতি থাকা অত্যন্ত জরুরি; এটি চালু হলে পুলিশ সদস্যদের কষ্ট ও ঝুঁকি অনেকাংশে কমত।"

ডিসি ট্রাফিক আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, সিলেটে এখন শুধু সিগনাল বাতির অভাবই নয়, এখানকার ‘রোড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা সড়ক নকশাতেও মারাত্মক ভুল রয়েছে এবং যত্রতত্র নিয়মবহির্ভূত চত্বর বা গোলচত্বর নির্মাণ করায় নগরীতে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। সড়কে শৃঙ্খলা ও আধুনিকতা ফেরাতে সম্প্রতি সিসিক কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েক দফা আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হলেও প্রকল্প পাস করার জটিলতার কারণে পুরো বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad