লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দল
সিলেট বিভাগের পাথর ও বালু মিশ্রিত কোয়ারিগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত সরকারি উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১২টায় কানাইঘাট সুরমা নদীর ঘাট থেকে নৌকাযোগে লোভাছড়া পাথর কোয়ারির বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহদী হাসান শাকিল, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সালমান নুর আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার ও কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো পরিবেশ রক্ষা করে পুনরায় ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। সীমান্ত নদীর পলি জমা, নদীভাঙন এবং সার্বিক পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা করে এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এদিকে কোয়ারি পরিদর্শনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এই কোয়ারি সিলেটের পূর্বাঞ্চলের মানুষের একমাত্র কর্মসংস্থানের মাধ্যম। পরিবেশ রক্ষা করে এখান থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দিলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে।
জবাবে বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে খুবই আন্তরিক। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাখিল করা হবে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: