মন্ত্রীর প্রটোকলে ব্যস্ত শীর্ষ নেতারা
ভাঙন ঠেকাতে সিলেট মহানগর বিএনপিতে আসছে চমক
সিলেট মহানগর বিএনপিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। অচিরেই নতুন আহ্বায়কের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে মহানগরের এই সাংগঠনিক ইউনিট। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে অতিশীঘ্রই সিলেট মহানগর বিএনপি নতুন আহ্বায়ক পেতে যাচ্ছে—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগরের এক শীর্ষ নেতা। তবে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। মহানগরের আরও কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলেও এই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর রেজাউল হাসান কয়েছ লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ১৭০ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট মহানগর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে কমিটি গঠনের পর প্রায় ১৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি।
একাধিক ওয়ার্ডে এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সিলেট মহানগরীতে বিএনপির সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যাপকভাবে বাড়লেও, শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাবে সাংগঠনিক ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান-দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনের পর প্রথমবার সিলেট সফরে এসে এখানকার সাংগঠনিক অবস্থান জোরালো করার কঠোর তাগিদ দেন। একইসাথে দ্রুততম সময়ে দল পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। চেয়ারম্যানের এই বার্তার পর থেকেই সিলেট মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদে আসতে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে।
মহানগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রধান আলোচনা—কে হচ্ছেন নতুন আহ্বায়ক? নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে শীর্ষ পদের জন্য তিন নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হতে দেখা গেছে। তারা হলেন: বদরুজ্জামান সেলিম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপি),নাসিম হোসাইন (সাবেক সভাপতি, সিলেট মহানগর বিএনপি) ও আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি (সাবেক আহ্বায়ক, সিলেট মহানগর বিএনপি)। তবে আলোচনায় আসা এই তিন নেতার এ বিষয়ে কোন মন্তব্য জানতে চাওয়া হয় নি।
মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত দিনে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এবং রাজপথে নির্যাতিত-মজলুম নেতাকর্মীদের নতুন কমিটিতে পদায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। যে কারণে নতুন নের্তত্ব প্রয়োজন এবং এই দাবি এখন বেশ জোরালো। মহানগরের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক নেতা জানান, বর্তমান বাস্তবতায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে যেখানে দিনরাত মনোনিবেশ করা উচিত ছিল, সেখানে সিলেট মহানগর বিএনপিতে তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান মহানগরের শীর্ষ দুই নেতা সাংগঠনিক কাজের চেয়ে মন্ত্রীদের কর্মসূচি প্রটোকল ও তা সফল করতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করা হতো কিংবা বিগত দিনের রাজপথের লড়াকু ও মজলুম কর্মীদের খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের নতুনভাবে পদায়নের সুযোগ তৈরি করা হতো, তবে দল সাংগঠনিকভাবে আরও বেশি সুফল পেত।
এসব অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠন এবং সামগ্রিক সাংগঠনিক স্থবিরতার বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সিলেটের তৃণমূল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সিলেট মহানগর বিএনপিকে একটি গতিশীল ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করানোর বিকল্প নেই। আর সেজন্যই আসন্ন কমিটিতে ব্যক্তি-প্রটোকলের ঊর্ধ্বে উঠে দলের প্রতি অনুগত, রাজপথের পরীক্ষিত এবং বিগত দিনের মজলুম নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করাই হবে নতুন আহ্বায়কের মূল চ্যালেঞ্জ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: