তাহিরপুরে নৌকা ডুবি : নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

তাহিরপুরে নৌকা ডুবি : নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

৩০/০৫/২০২৬ ১১:৪৯:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ


তাহিরপুর প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নববধূকে নিয়ে বরের বাড়ি ফেরার পথে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ শিশু ওবায়দুল (৪)'র মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর স্থানীয় ও নিহতের স্বজনরা  শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নয়াবন্দ গ্রামের পশ্চিম পাশের পাটলাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওবায়দুল শাহ্ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের তৌহিদ নূর শাহ্ নবাবের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াঘাট গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে হাবলু মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের নয়াবন্দ গ্রামের নাসির মিয়ার মেয়ে রিফা আক্তারের বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয় শুক্রবার। বিকেলে নববধূকে বরের বাড়িতে নিয়ে যেতে বরপক্ষের প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন লোক নববধূর বাড়িতে যান। খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই একসঙ্গে নৌকাযোগে রওয়ানা দিলে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়।

নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিশু ওবায়দুল শাহ্ নিখোঁজ হয়। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে তাহিরপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। কিছু আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখোজি চলমান রাখা -- কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি  দল, আসার আগেই স্থানীয়রা ১৮ ঘন্টা খোজাখুজি করে সকাল ৬টার সময় পাটলাই নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল তার দাদীর সঙ্গে নতুন চাচাকে বরণ করে আনতে গিয়েছিল। কিন্তু আনন্দঘন সেই যাত্রাই পরিণত হয় শোকের ঘটনায়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার বাবা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তৌহিদ নূর শাহ্ নবাব।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল না থাকায় জেলা সদর থেকে ডুবুরি দল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তাদের সকালে আসার কথা ছিল। এর আগেই স্থানীয়রা নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। বর্তমানে মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

শামছুল আলম আখঞ্জী/এআর

মন্তব্য করুন: