মৌলভীবাজারে শিশুকে ছাদসদৃশ ব্লক থেকে ফেলে পিটিয়ে জখম

হাসপাতালে ভর্তি

মৌলভীবাজারে শিশুকে ছাদসদৃশ ব্লক থেকে ফেলে পিটিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

৩০/০৫/২০২৬ ১৬:২৯:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে উচুঁ ব্লক থেকে নিচে ফেলে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। আহত ওই শিশুকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের আমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশুর নাম মোহাম্মদ আরাফাত রহমান (১২)। সে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অভিযুক্ত প্রতিবেশীর নাম মোহাম্মদ সুয়েব মিয়া (৪৫)। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।


আহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পায়ের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের নিষেধ থাকায় আরাফাত নিজে না খেলে মাঠের পাশে সিসি ব্লকের স্তূপের ওপর বসে বন্ধুদের খেলা দেখছিল। ওই দিন বিকেলে অন্য শিশুদের খেলার সময় অভিযুক্ত সুয়েব মিয়ার ছেলে আঘাত পায়। সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরলে সুয়েব মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে খেলার মাঠে যান এবং উপস্থিত শিশুদের গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ব্লকের ওপর বসে থাকা আরাফাতকে দোষারোপ করেন তিনি। আরাফাত নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে সুয়েব মিয়া তাকে জোরপূর্বক গাছ থেকে আম পেড়ে দিতে বলেন। পায়ের সমস্যার কারণে সে অস্বীকৃতি জানালে সুয়েব মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রায় ছয় ফুট উঁচু ব্লকের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে আরাফাত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পাশে থাকা বরই গাছের শুকনা ডাল দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে আরাফাতের সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।


আরাফাতের বাবা মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর ছেলে বাড়িতে ফিরে বারবার বমি করতে থাকে এবং প্রচণ্ড জ্বর আসে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আমার ছেলের ওপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাথায় আঘাত এবং অতিরিক্ত মারধরের কারণে শিশুটি ট্রমার (মানসিক আঘাত) মধ্যে ছিল। চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সুয়েব মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও আমাদের জানানো হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: