সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার মার্কেটের ছাদে যুবকের মরদেহ

সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার মার্কেটের ছাদে যুবকের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩০/০৫/২০২৬ ১০:০৫:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াখালী বাজারে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন মার্কেটের ছাদ থেকে জোবায়েল মিয়া (৩৩) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে)  বিকেলে স্থানীয় কিশোরেরা মার্কেটের ছাদে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।


নিহত জোবায়েল মিয়া উপজেলার নোয়াখালী গ্রামের (পূর্ব বসতি জামলাবাজ) আবদুস সোবহানের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, জোবায়েল এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যে মার্কেট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটির মালিক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর আলী।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নোয়াখালী বাজারের ওই মার্কেটের ছাদে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর উঠলে জোবায়েলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা নিচে নেমে এসে বাজারের লোকজনকে খবর দেয়। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছাদে গিয়ে জোবায়েলের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। 


মার্কেটের নিচতলার বাস কাউন্টার পরিচালক জুয়েল আহমদ বলেন, ‘আমার দোকানের পাশ দিয়েই ছাদে যাওয়ার রাস্তা। প্রায়ই অনেকে এই ছাদে গিয়ে আড্ডা দেন। বিকেলে কয়েকজন কিশোর ছাদে গিয়ে জোবায়েলকে পড়ে থাকতে দেখে আমাকে জানায়। আমি গিয়ে কোনো নড়াচড়া না দেখে মার্কেটের মালিক নূর আলীসহ অন্যদের খবর দিই। পরে নূর আলী নিজেই থানায় বিষয়টি জানান।’


মার্কেটের মালিক ও বিএনপি নেতা নূর আলী বলেন, ‘ভাড়াটে জুয়েলের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমি ছাদে যাই। গিয়ে দেখি নোয়াখালী গ্রামের জোবায়েল মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমি শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানাই।’


এদিকে জোবায়েলের মৃত্যুর পর আজ সন্ধ্যায় নোয়াখালী বাজারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটির উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত নিহতের মা জাহানারা বেগম, ভাই রাসেল মিয়া ও চাচা আবদুল গফুরসহ স্বজনেরা দাবি করেন, জোবায়েলের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ বা দাবি নেই। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবুজ মিয়ার মাধ্যমে দাফনের অনুমতির জন্য স্বজন ও উপস্থিত লোকজনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।


বৈঠকে উপস্থিত নোয়াখালী বাজার কমিটির সভাপতি মো. মতিউর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান সুজন মিয়া (সবুজ) জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁরা দাফনের অনুমতির জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন।


জানতে চাইলে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রীতম দাস/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: