বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

কাটেনি নাগরিক সুবিধার সংকট

বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৫/২০২৬ ২৩:২১:৪৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঈদুল আজহার ছুটির দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন মেঘালয়ের পাহাড়, ঝরনা আর পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলের মিতালি দেখতে। প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা মেতে উঠেছেন ঈদের আনন্দে।


সরেজমিনে দেখা যায়, বিছনাকান্দির পাথুরে নদী আর নীল জলের বুকে পর্যটকেরা জলকেলিতে মেতে আছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে পর্যটনকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে থানা-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে।


তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটলেও বিছনাকান্দিতে এখনো নিশ্চিত হয়নি পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা। পর্যটনকেন্দ্রে মানসম্মত বাথরুম, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ (ড্রেসিং রুম), বসার স্থান ও রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য পর্যাপ্ত ছাউনি না থাকায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অনেক দর্শনার্থী। বিশেষ করে নারী ও শিশু পর্যটকদের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সোলেমান মিয়াজি বলেন, "বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অতুলনীয়। কিন্তু এখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পর হাত-মুখ ধোয়া বা নারীদের কাপড় পরিবর্তনের কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। বসার মতো একটা ছাউনিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এত জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্রে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা না থাকাটা দুঃখজনক।"


অবকাঠামোগত ঘাটতি থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। পর্যটকদের আগমনে এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। পর্যটকবাহী নৌকা, খাবারের হোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র দোকানগুলোতে বেচাকেনা বেড়েছে কয়েক গুণ।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি উদ্যোগে যদি এখানে একটি পর্যটনবান্ধব আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তবে বিছনাকান্দিতে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে এবং এটি দেশের অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে। দ্রুত এই সংকট সমাধানে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: