ঘরে ফেরা হলো না ওদের, দেশের মায়ায় সীমান্তেই কাটল ঈদ
দেশজুড়ে আজ আনন্দের জোয়ার। নতুন পোশাকের সুবাস, স্বজনদের কোলাহল আর মায়ের হাতের সেমাইয়ের ঘ্রাণে মেতে উঠেছে প্রতিটি ঘর। উৎসবের এই চেনা আলোয় যখন কোটি মানুষ প্রিয়জনের হাত ধরে হাসিমুখে ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত, তখন দেশের একদল সন্তান দাঁড়িয়ে আছেন এক নিঝুম, সুনসান সীমান্তে। তাঁরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য।
চারপাশে যখন শুধুই উৎসবের কোলাহল, তখনো তাঁদের চোখে এক মুহূর্তের পলক ফেলার জো নেই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা আর সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখার কঠিন ব্রত নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এই অতন্দ্র প্রহরীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উৎসবের এই দিনে খুব সীমিত সংখ্যক সদস্য পরিবারের কাছে যাওয়ার ছুটি পেয়েছেন। তবে অধিকাংশেরই ফেরা হয়নি চিরচেনা মায়ের কোলে কিংবা সন্তানের হাসিমুখের কাছে। দেশের স্বার্থে সীমান্তকে নিরাপদ রাখাই যে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব!
তেমনি এক অনন্য ও আবেগময় দৃষ্টান্তের দেখা মিলল হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির সীমান্ত চৌকিগুলোতে। ঈদের দিনও এতটুকু বিশ্রামের সুযোগ নেননি এখানকার জোয়ানেরা। হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান না ঘটতে পারে, সেজন্য তীব্র রোদ আর আচমকা বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাঁধে বন্দুক চেপে তাঁরা অবিরাম টহল দিয়ে যাচ্ছেন।
"পরিবারের জন্য মন তো কেমন করেই...সীমান্তে ডিউটিরত এক বিজিবি সদস্যের চোখের কোণে তখন হয়তো ভাসছিল ঘরের কথা। বুকচাপা এক দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে মৃদু হেসে তিনি বললেন-পরিবারের সবার সাথে ঈদ করার ইচ্ছা তো আমাদেরও থাকে। মন কেমন করে বৈকি! কিন্তু আমাদের কাঁধে যে দেশের কোটি মানুষের শান্তির দায়িত্ব। আমরা জেগে আছি বলেই তো আমার পরিবার, আমাদের দেশবাসী শান্তিতে ঈদ করতে পারছেন। এই ভাবনাটুকুর মাঝেই আমরা আমাদের ঈদের আনন্দ খুঁজে পাই।
ঈদের দিনেও ঘরের মায়া, স্বজনদের টান বিসর্জন দিয়ে সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের এই নিরলস ও পেশাদার দায়িত্ব পালন দেখে আবেগাপ্লুত স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইছে তাঁদের প্রশংসার জোয়ার।
নিজের সুখ বিলিয়ে দিয়ে দেশকে আগলে রাখা বিজিবির এই বীর সদস্যদের ত্যাগ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—ওরা শুধু প্রহরীই নন, ওরা এই দেশের এক একজন নিঃস্বার্থ অভিভাবক।
রাজীব দেব রায় রাজু / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: