মৌলভীবাজারে কোরবানির চামড়া বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

ক্রেতা সংকটে মাদ্রাসা ও কোরবানিদাতারা

মৌলভীবাজারে কোরবানির চামড়া বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৯/০৫/২০২৬ ১৪:২৪:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত দামের ধারেকাছেও নেই চামড়ার বেচাকেনা। উল্টো পানির দরে, অর্থাৎ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। উপযুক্ত দাম না পেয়ে এবং বাজারে ক্রেতার তীব্র সংকট থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতা ও চামড়া দান হিসেবে পাওয়া স্থানীয় মাদ্রাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।


স্থানীয় বাসিন্দা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও অনেক এলাকায় কোনো আড়তদার বা পাইকারি ক্রেতার দেখা মেলেনি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।

পানির দরে বিক্রি


জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীরা বড় আকারের গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় কিনছেন। মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার অবস্থা আরও করুণ; এগুলো বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, যা অনেক ক্ষেত্রে লবণ দেওয়ার খরচের চেয়েও কম।


শহরের সুলতানপুর এলাকার এক কোরবানিদাতা বলেন, "বিকেল পর্যন্ত কোনো ক্রেতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াটি কাছের একটি মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছি। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি চামড়ার স্তূপ জমে আছে, নেওয়ার মানুষ নেই।"


বিগত বছরগুলোতে কোরবানির চামড়া বিক্রি করে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো তাদের তহবিলের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করত। তবে এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে চামড়ার দরপতন, লবণ ও শ্রমিকের আকাশছোঁয়া মজুরি এবং বিক্রির চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া সংগ্রহে অনীহা দেখিয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চামড়া নিলেও তা সংরক্ষণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য


একটি স্থানীয় মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত মুহতামিম বলেন---চামড়া ফ্রি পেলেও সেটি প্রক্রিয়াজাত করতে যে পরিমাণ লবণ ও শ্রমিকের খরচ হয়, বাজারে চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাই উঠছে না। আড়তদারেরা চামড়া নিতে চাচ্ছেন না। ফলে এবার আমরা সীমিত পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করেছি।


এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেই তারা বেশি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না।


চামড়ার বাজারের এই নজিরবিহীন অস্থিরতায় কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এই খাতের বিপর্যয় রোধে এবং দেশের অন্যতম প্রধান এই রপ্তানি সম্পদ রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শাহিন আহমেদ/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: