শাল্লায় নোংরা পরিবেশে খাবার বিক্রি: দুই হোটেলকে জরিমানা
শাল্লায় সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে দুটি নামী রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলা সদরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে নোংরা ও পচাবাসি খাবার সংরক্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিপরীতে মাত্র এক হাজার টাকা করে জরিমানা করায় প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার দুপুর ১২টায় শাল্লা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়ীদ মোহাম্মদের নেতৃত্বে সদরের বাণিজ্যিক এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, বাজারের নাম করা দুটি খাবারের দোকান চার ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট সুইটমিট এবং সকাল সন্ধ্যা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে চরম নোংরা, স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। ফ্রেশ খাবারের আড়ালে বাসি ও অনিরাপদ খাবার সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১,০০০ টাকা করে সর্বমোট ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোটেলগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিষ খাওয়াচ্ছে। নোংরা পরিবেশে খাবার বেচে তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লাভ করছে, আর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তাদের মাত্র ১,০০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিলেন! এটা শাস্তি নাকি পুরস্কার?
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়ীদ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
জরিমানার পরিমাণ কম হওয়া প্রসঙ্গে প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, প্রথমবার সতর্কতামূলক হিসেবে এই নগণ্য জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের দাবি, এই নামমাত্র জরিমানা আসলে এক ধরণের আইনি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বড় ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা হোটেল সিলগালা না করায় পার পেয়ে যাওয়া অসাধু ব্যবসায়ীরা পুনরায় একই নোংরা পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করবে। শাল্লায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত তদারকি এবং অপরাধের অনুপাতে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: