ধান নিয়ে কৃষকের চরম উৎকণ্ঠা
টানা বৃষ্টি ও ঢলের আশঙ্কায় সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন করে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন সীমান্ত ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। পাউবোর তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে গত তিন দিনে মোট ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই সময়ে সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে পানি এখনও বিপদসীমার ১.৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়লেও আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই, তবে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, "দুর্যোগ যেন এ বছর কৃষকদের পিছু ছাড়ছে না। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কাটা ধান ক্ষেতেই পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।"
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এবার ২ লাখ ২৩,৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৭.৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে এবং এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ১০ দিন আগের হিসাব অনুযায়ী অতিবৃষ্টি ও ঢলে ২০,৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি; তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এই চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: