মন্ত্রীর ঘোষণা উপেক্ষিত: সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় গরুর রমরমা হাট
Led Bottom Ad

বিপাকে দেশি খামারি

মন্ত্রীর ঘোষণা উপেক্ষিত: সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় গরুর রমরমা হাট

প্রথম ডেস্ক

১৫/০৫/২০২৬ ১৭:৫২:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশি গরুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কোরবানির ঈদের আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাট ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তবে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় মন্ত্রীর এই ঘোষণার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো মধ্যনগরের মহিষখলা এবং দোয়ারাবাজারের বোগলাবাজারের মতো সীমান্তবর্তী হাটগুলোতে অবাধে চলছে ভারতীয় গরুর কারবার। ফলে বন্যার পর গো-খাদ্য সংকটে থাকা হাওরাঞ্চলের কৃষকরা তাঁদের পালিত গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় এবার খড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পশুর আহার জোগাতে না পেরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। ইসলামপুর গ্রামের কৃষক মাসুক মিয়া জানান, তাঁর ৬০ হাজার টাকার গরু মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এর ওপর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আসায় বাজারে দেশি গরুর দাম আরও কমে গেছে। খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা সুনামগঞ্জে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা বাজারে প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত পশুর হাট বসছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারটি খাস কালেকশনে ইজারা দেওয়ার পর সেখানে ভারতীয় গরু এনে সেগুলোকে দেশি হিসেবে বৈধতা দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইজারাদার মোক্তার হোসেন দাবি করেছেন, সীমান্তে হাট বন্ধের কোনো সরকারি নির্দেশনা তিনি পাননি। অন্যদিকে, দোয়ারাবাজারের বোগলা সীমান্ত এখন চোরাচালানের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ভারতীয় গরু এনে স্থানীয় খামারে রাখা হয় এবং পরে সেগুলো দেশি গরু হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানিয়েছেন, বাজারে ভারতীয় গরু ঢোকার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল জানান, কিছু হাট আগে থেকেই বন্দোবস্ত দেওয়া আছে এবং কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের কথা তাঁর জানা নেই। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো না হলে এবার কোরবানির হাটে দেশি খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad