মৌলভীবাজারে চিকিৎসকের ফি একলাফে ১৫০০, দ্বিতীয়বার ১৪০০

ফেসবুকে ক্ষোভ

মৌলভীবাজারে চিকিৎসকের ফি একলাফে ১৫০০, দ্বিতীয়বার ১৪০০

কামরান আহমদ, মৌলভীবাজার

২৯/০৫/২০২৬ ২২:৫০:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার জেলা শহরে এক প্রবীণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধির একটি নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত রোগীরা একে ‘সেবার নামে পকেট কাটা’ ও ‘বাণিজ্যিক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন।


সম্প্রতি শহরের ‘নুরুন নাহার ফার্মেসি’র দেওয়ালে সাঁটানো একটি নোটিশের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। নোটিশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অধ্যাপক ডা. কাজী মহিবুর রহমানের ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রথমবার দেখানোর (ভিজিট) ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার দেখালে (ফলো-আপ) ফি রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা।


সাধারণত যেকোনো চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রথম ভিজিটের পর এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার দেখালে ফি অর্ধেক বা তার চেয়ে কম নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এই চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় ভিজিটের ব্যবধান রাখা হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। মাত্র ৩০ দিনের মাথায় একজন রোগীকে পুনরায় দেখাতে গেলেও ১ হাজার ৪০০ টাকা গুণতে হচ্ছে—বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সচেতন মহল ও সেবাভোগীরা।


নোটিশটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা কমেন্ট বক্সে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। আহমেদ রাফি নামের এক স্থানীয় যুবক লিখেছেন, "মৌলভীবাজারের মতো একটা জেলা শহরে ১৫০০ টাকা ভিজিট! তার ওপর ১ মাসের মধ্যে দেখালে ১৪০০ টাকা! মধ্যবিত্তরা তো এখন চিকিৎসা না পেয়েই মারা যাবে।"


নাসরিন সুলতানা নামের এক গৃহিণী আক্ষেপ করে লিখেছেন, "ডাক্তার দেখাতেই যদি সব টাকা শেষ হয়ে যায়, তবে ওষুধ কিনব কী দিয়ে আর ল্যাব টেস্ট করাব কীভাবে? ভালো ডাক্তার হলেই কি মানুষের ওপর এভাবে চাপ তৈরি করতে হবে?"


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হঠাৎ করে এই চড়া ফি’র কারণে মৌলভীবাজারের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। তাঁরা লোকলজ্জার কারণে সরকারি হাসপাতালের লাইনেও দাঁড়াতে পারছেন না, আবার বিপুল টাকা খরচ করে বেসরকারি চেম্বারেও যেতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, "সীমিত আয়ে আমাদের সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে এই বিপুল অঙ্কের ফি দেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব। এটা চিকিৎসালয় নয়, রীতিমতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।"


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা এই তীব্র প্রতিবাদের পর জনসাধারণের দাবি, অনতিবিলম্বে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসনের উচিত বেসরকারি চিকিৎসকদের ফি-এর একটি যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না চলে যায়, সে জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: