দেশে টাকা পাঠাতে গিয়ে প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় বড়লেখার যুবকের মৃত্যু
মায়ের মৃত্যুর ঠিক ৪০ দিন আজ। বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার বাড়িতে হওয়ার কথা ছিল দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। সেই মাহফিলের খরচের টাকা পাঠাতেই সৌদি আরবে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ছেলে। কিন্তু মায়ের দোয়ার জন্য পাঠানো সেই টাকাই হলো তাঁর জীবনের শেষ পাঠানো রেমিট্যান্স। টাকা পাঠানো হলেও ছেলে আর মায়ের কোলে ফিরলেন না। মায়ের মৃত্যুর ৪০ দিনের মাথায় দূর প্রবাসের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছোট ছেলে মউর উদ্দিন (২৭)।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। মউর উদ্দিন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গংগারজল গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৪০ দিন আগে মউর উদ্দিনের মা ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই পুরো পরিবারে শোকের মাতম চলছিল। আজ মায়ের মৃত্যুর ৪০তম দিনে বাড়িতে একটি বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল পরিবার। প্রবাস থেকে সেই মাহফিলের খরচ পাঠানোর জন্যই গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের একটি ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা হন মউর উদ্দিন। কিন্তু পথিমধ্যেই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তাঁর প্রাণ।
মায়ের শোক কাটতে না কাটতেই আদরের ছোট ছেলেকে হারানোর এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারটির দোয়া মাহফিলের আয়োজন নিমিষেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর স্তব্ধতা।
মউর উদ্দিনের এক প্রতিবেশী অশ্রুসজল চোখে বলেন, "মায়ের আত্মার শান্তির জন্য টাকা পাঠাতে গিয়ে নিজেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল ছেলেটা। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! মায়ের চল্লিশার দিনেই এলো ছেলের মৃত্যুর খবর। এখন এই বৃদ্ধ বাবা কার দিকে তাকিয়ে বাঁচবেন?"
পরিবারের পক্ষ থেকে মউর উদ্দিনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সাথে প্রিয় সন্তানের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখতে ও দেশের মাটিতে দাফন করতে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের ও সৌদি দূতাবাসের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন ভাগ্যাহত বাবা ও শোকগ্রস্ত স্বজনরা।
হিফজুর রহমান / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: