শেকড় ভোলেননি বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জমিরুল সিরাজ
Led Bottom Ad

শেকড় ভোলেননি বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জমিরুল সিরাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, যুক্তরাজ্য

২৪/০৫/২০২৬ ২২:৩৭:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সাফল্যের আকাশ ছোঁয়া হয়তো অনেকের পক্ষেই সম্ভব, কিন্তু সেই আকাশের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের মা, মাটি আর শেকড়কে বুকে ধরে রাখার মানুষ পৃথিবীতে বিরল। তেমনই একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব—জমিরুল ইসলাম সিরাজ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গোপশহর গ্রামের মাটি ও বাতাসে বেড়ে ওঠা এই কৃতি সন্তান আজ সুদূর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। নিজের মেধা, সততা আর অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি কেবল ব্যবসার জগতেই সফল হননি, বরং জয় করেছেন লাখো মানুষের মন।


সম্প্রতি যুক্তরাজ্যস্থ তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জালালি ইন্ডিয়ান কুইজিন’ মিডল্যান্ডসের মধ্যে একমাত্র সেরা রেস্টুরেন্ট হিসেবে গৌরবময় ‘বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে। এই প্রাপ্তি কেবল জমিরুল ইসলাম সিরাজের স্বীয় কর্মেরই ফল নয়, বরং এটি পুরো সিলেটের জন্য, তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট সম্মান ও অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে।


বৃটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির এই অবিস্মরণীয় মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে গত ২১ মে যুক্তরাজ্যে এক জমকালো ‘সেলিব্রেশন ডিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। গুণীজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিনত হয়েছিল এক মিলনমেলায়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জালালি পরিবারের আনন্দকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিসিএ প্রেসিডেন্ট জনাব অলি খান এমবিই, বিবিসিসিআই-এর অন্যতম নেতা জনাব প্রফেসর সানওয়ার চৌধুরী, বিসিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব ফয়েজুল হক, ব্রিটেনের সুপরিচিত বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব জনাব ফয়েজুর রহমান এমবিই, এবং বিসিএ ডেপুটি অর্গানাইজিং সেক্রেটারি জনাব শহিদুল হক চৌধুরী লিটন।


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব মিছবাহুর রহমান, বিবিসিসিআই-এর জনাব আব্দুল মালেক, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জনাব আব্দুল কাদির, বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম-মিডল্যান্ডস'র সভাপতি জনাব জিয়া তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক জনাব আতিকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ জনাব এম মোস্তফা লিমন এবং বার্মিংহাম বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সেলিব্রিটি সাংবাদিক জনাব জয়নাল ইসলামসহ মিডল্যান্ডসের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ।


অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে জমিরুল ইসলাম সিরাজ বলেন: "গুণীজনদের পদচারণায় আমরা জালালি পরিবার আজ ধন্য। আপনাদের এই উপস্থিতি ও ভালোবাসা আমাদেরকে আগামীতে আরও বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।"


কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি এ সময় গিনিস বুক অব রেকর্ডে ঠাঁই পাওয়া খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটি শেফ, তাঁর প্রিয় বন্ধুসম ভাই জনাব আব্দুস সালাম এবং দেশ-বিদেশের সুপরিচিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব, 'আমরা কভেন্ট্রিবাসী'র মুখপাত্র, স্নেহধন্য ভাতিজা সাংবাদিক তালুকদার রায়হানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।


জমিরুল ইসলাম সিরাজ কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীই নন; তাঁর আসল পরিচয় তিনি একজন আপাদমস্তক জনদরদী, সমাজসেবক ও পরোপকারী মানুষ। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন কিংবা প্রাচুর্যের আলো—কোনো কিছুই তাঁকে মাতৃভূমির অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা, তা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। হাজার মাইল দূরে থাকলেও তাঁর মনটা পড়ে থাকে সিলেটের গোপশহরের সেই মেঠো পথে, যেখানে তাঁর নাড়ি পোঁতা।


প্রতি বছর পবিত্র কোরবানি কিংবা রোজার ঈদে যখন চারদিকে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, তখন জমিরুল ইসলাম সিরাজের মন কাঁদে নিজ এলাকার হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য। তিনি মনে করেন, নিজের আনন্দের চেয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দ অনেক বড়। তাই তো প্রতি ঈদে তিনি অকৃপণ হস্তে পাশে দাঁড়ান নিজ এলাকার অসহায় মানুষের। শুধু উৎসব-পার্বণেই নয়, যখনই কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্বিপাক দেশের বুকে আঘাত হেনেছে, তখনই তিনি নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আর্তমানবতার সেবায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।


আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য জমিরুল ইসলাম সিরাজ একটি জীবন্ত অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম ও সততা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। আর সবচেয়ে বড় শিক্ষা যা তিনি তাঁর জীবন দিয়ে দিচ্ছেন—তা হলো, সফলতার চূড়ায় পৌঁছেও কীভাবে বিনয়ী থাকা যায় এবং কীভাবে নিজের মাতৃভূমি ও দেশের ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করতে হয়।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad