চামড়া কিনে এবার চরম বিপাকে মৌলভীবাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

চামড়া কিনে এবার চরম বিপাকে মৌলভীবাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

২৯/০৫/২০২৬ ২১:৩৬:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কোরবানির পশুর চামড়া কিনে এবার চরম বিপাকে পড়েছেন মৌলভীবাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় এবং বড় আড়তদারদের অনীহার কারণে অনেক সংগ্রাহক চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সেগুলো ফেলে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দুর্গন্ধ ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে মাটিচাপা দিচ্ছেন।


জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির দিন ও পরদিন গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট ও আড়তে নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চাহিদার তুলনায় দাম কম থাকায় অধিকাংশই লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, লবণ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ করার পরও চামড়ার ন্যায্য মূল্য মিলছে না।


একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ধারদেনা করে চামড়া কিনলেও পরে তা বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়তে হয়েছে। কেউ রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে গেছেন, আবার কেউ পচন ও দুর্গন্ধের আশঙ্কায় মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।


স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছরই চামড়া বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে দরকষাকষির সুযোগও থাকে না।


বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঁচা চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সংকট, সংরক্ষণ সমস্যা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে ক্ষুদ্র সংগ্রাহক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও অবিক্রিত চামড়া ফেলে দেওয়ার ঘটনা এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসানের খবর পাওয়া গেছে। 


ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি, ঘোষিত দরের বাস্তবায়ন এবং সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী বছর অনেকেই চামড়া সংগ্রহের ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াবেন।

শাহিন আহমেদ / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: