সুনামগঞ্জে চোরাই মালামালসহ চোর গ্রেপ্তার
দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। একের পর এক চুরির ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও চোরচক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। কেউ থানায় অভিযোগ করলেও অনেকেই অভিযোগ করেননি। এ অবস্থায় পুলিশ নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) গভীর রাতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য শাহীন মিয়া (২৫)-কে শহর থেকে চোরাই মালামালসহ আটক করে। তিনি বড়পাড়া (নদীর পাড়) এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল এবং চুরি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া, শাহীনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকায় পারভীন নামে এক নারীর বাড়ির ভাড়াটিয়া পলাতক আসামি আলী হোসেন (২৭) ও নবীনুর (৩০)-কে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হলেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, একটি হিকভিশন ডিভিআর, একটি হাতকড়া, প্রায় ১০০ মিটার ইন্টারনেট ক্যাবল, বৈদ্যুতিক সুইচ-সকেট, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট, দুটি বাওফেং ওয়্যারলেস সেট, প্রসাধনী সামগ্রী, একটি আইফোন, চোরাই কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন মালামাল। উদ্ধারকৃত আলামতের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
ওসি রতন শেখ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে শহরের চুরির ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ কাজ করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সফলতা এসেছে। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
লতিফুর রহমান রাজু / আর আর
মন্তব্য করুন: