বড়লেখায় তহসিলদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ

বড়লেখায় তহসিলদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

৩১/০৫/২০২৬ ২২:৩১:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। খাজনা আদায়ে হয়রানি, সরকারি রসিদ জালিয়াতি, নামজারিতে উৎকোচ গ্রহণ এবং অবৈধভাবে টিলা ও কৃষিজমির মাটি কাটায় জড়িতদের সহায়তার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী।


অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হবিগঞ্জ কার্যালয়, বড়লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।


লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই আশীষ কুমার সরকার খাজনা আদায়ে ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, আগের বছরের খাজনা পরিশোধের রসিদ থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বের রসিদ থাকা সত্ত্বেও বাংলা ১৩৭৯ সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে অনলাইনে বড় অঙ্কের টাকা এন্ট্রি দেন। পরবর্তীতে সেই বকেয়া কমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাত্র ১১২ টাকার সরকারি রসিদ ধরিয়ে দেন।


এ ছাড়া অনলাইনে নামজারির আবেদনের পর প্রতিবেদন তৈরির সময় জমির সীমানা বা তফশিলের ভুলের অজুহাতে আবেদন বাতিলের ভয় দেখিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। টাকা দিলে পক্ষে প্রতিবেদন দেন, অন্যথায় আবেদন বাতিলের সুপারিশ করেন।


অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই এলাকায় বিভিন্ন টিলা ও ফসলি জমির মাটি পাচার করছে অসাধু চক্র। ইটভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার কারণে তহসিলদার আশীষ কুমার এসব বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেন না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দিলেও তিনি অবৈধ মাটি কাটার কোনো প্রমাণ পাননি বলে মিথ্যা প্রতিবেদন দেন। এমনকি মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর তিনি আগেই মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।


ভুক্তভোগী ভূমি মালিক মতিলাল দাস, মো. কুরেশীয়া ও রহিম বক্ত মুসা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী খাজনা দিতে গেলে তহসিলদার বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত বকেয়া দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা সমাধানের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে কাজে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয়।’


এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে নিউজ করতে পারেন।’


এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হিফজুর রহমান / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: