বিদায়ের আগে শাহজালাল মাজারে তালাবদ্ধ দানবাক্স খুললেন ডিসি সারওয়ার

বিদায়ের আগে শাহজালাল মাজারে তালাবদ্ধ দানবাক্স খুললেন ডিসি সারওয়ার

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২২/০৬/২০২৬ ১৭:০৩:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের ঐতিহ্য, আবেগ আর শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার। এই পবিত্র স্থানের দান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন, সেই চেনা মানুষটিই আজ এসেছিলেন শেষবারের মতো নিজের দায়িত্ব পালন করতে। বদলির আদেশ মাথায় নিয়েও কর্তব্যে বিন্দুমাত্র চুলকানি দেননি সিলেটের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা মাজারের ৩টি ডেগ ও দানবাক্সগুলো চার দিন পর আজ সোমবার তাঁর উপস্থিতিতেই খোলা হয়েছে।


আজ সোমবার (২২ জুন) জোহরের নামাজ মাজার মসজিদে আদায় করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নামাজ শেষে বেলা ঠিক ২টার দিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই সিলগালাকৃত ডেগ ও দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়।


সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধার নজরানা—বস্তাভর্তি টাকা। এরপর অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সেই টাকাগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই গণনা কার্যক্রম পুরোদমে চলছিল।


সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাননীয় জেলা প্রশাসক স্যারের উপস্থিতিতেই আজ মাজারের ডেগ ও দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। গণনা শেষ হওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিকভাবে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।"


মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের এই উদ্যোগটি ছিল বেশ সাহসী এবং প্রশংসিত।


এর আগে ১২ জুন (শুক্রবার) জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথম মাজার পরিদর্শনে যান এবং মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর এক সপ্তাহ পর ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের ঐতিহ্যবাহী ৩টি বড় ডেগ সিলগালা করা হয়। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বড় প্রধান দানবাক্সসহ বেশ কিছু ছোট ছোট দানবাক্স স্থাপন করা হয়।


এদিকে এই উদ্যোগ সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্য এবং বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। ডিসি সারওয়ার আলমের এই সাহসী পদক্ষেপ পুরো সিলেটে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং তিনি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।


ঠিক যখন মাজারের এই সংস্কার উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখছিল, তখনই আসে বদলির আদেশ। গতকাল রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।


বদলি বা প্রত্যাহারের এই খবর সিলেটে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কিছুটা বিষণ্ণ করলেও, বিদায়ের আগের মুহূর্তেও শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রতি নিজের নেওয়া দায়িত্ব সততার সাথে শেষ করে অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন এই কর্মকর্তা। সিলেটের মানুষ হয়তো এই ‘স্বচ্ছতার কারিগর’কে সহজে ভুলবে না।

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad