সিলেটে FNF-এর দুই দিনব্যাপী খাদ্য, পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি
নিরাপদ খাদ্য, সঠিক পুষ্টি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেটে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেছে সামাজিক সংগঠন ‘ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন ফ্যাক্টস’ (FNF)। গত ৫ ও ৬ আগস্ট নগরী ও আশপাশের চার পৃথক স্থানে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী, মা ও শিশু এবং স্কুলশিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে লাক্কাতুরা চা-বাগানের হেলথ সেন্টারে সুস্থ জীবনযাপন বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পরিমিত পানি পান এবং তামাকমুক্ত জীবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই স্থানে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে চা-শ্রমিক পরিবারের মা ও শিশুদের নিয়ে বিশেষ পুষ্টিবিষয়ক সভা আয়োজন করা হয়। সেখানে মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, প্রসূতি ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং পারিবারিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক দুটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাগুলোতে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, খাদ্য নিরাপত্তা ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হয়। কম বয়স থেকেই নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বক্তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
কর্মসূচিগুলোতে FNF-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাকিবুল ইসলাম, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) নাজিফা তাবাসসুম, রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ইসতিয়াক বিন ইসলাম ও রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট সানজিমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন আব্দুল মোমিন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহায়তা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বেলাল মিয়া, অর্বিক দেব, সুদিপ কুমার রায় ও নাহিদ।
কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ ও সার্বিক সহযোগিতা করেন সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথ এবং সিলেট ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার। তাঁরা FNF-এর এই সামাজিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
FNF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশু-কিশোর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টিজ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সফলভাবে কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করতে সহায়তাকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, লাক্কাতুরা চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: