বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তে থামল জার্মানির বিশ্বকাপ যাত্রা

বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তে থামল জার্মানির বিশ্বকাপ যাত্রা

প্রথম ডেস্ক

৩০/০৬/২০২৬ ২৩:০৫:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভিএআর। রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির অতিরিক্ত সময়ে করা একটি গোল বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভিএআরের হস্তক্ষেপে জনাথান তাহর গোল বাতিল করেন মরক্কোর রেফারি জালাল যায়েদ। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে ম্যাচের ফলেও, বিদায় নিতে হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।


অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান জনাথান তাহ। গোলের পর জার্মান খেলোয়াড়রা যখন উল্লাসে মেতে উঠেছেন, তখনই ভিএআরের পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখতে যান রেফারি। ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভালদেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন তিনি।


এই সিদ্ধান্তের পরপরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারের মতে, ঘটনাটি এতটাই সামান্য ছিল যে সেটিকে ফাউল ধরে গোল বাতিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ডেনমার্কের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও একই সুরে বলেন, গোলরক্ষক পরিস্থিতিকে বাস্তবের চেয়ে বড় করে উপস্থাপন করেছেন এবং এমন সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।


সমালোচনায় যোগ দেন জার্মান কিংবদন্তি কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও। তার বক্তব্য, যদি এটিকে ফাউল ধরা হয়, তাহলে কর্নার কিংবা সেট-পিস থেকে হওয়া অসংখ্য গোলও বাতিল করতে হবে। ম্যাজেন্টা টিভির রেফারিং বিশ্লেষক প্যাট্রিক ইট্রিখের মতে, এটি মোটেও 'ক্লিয়ার অ্যান্ড অবভিয়াস এরর' ছিল না। ফলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। একইভাবে জেডডিএফের রেফারি বিশেষজ্ঞ থরস্টেন কিনহোফারও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন সিদ্ধান্তে তিনি বাকরুদ্ধ।


তবে সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা বিশ্লেষকদের যুক্তিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, গোলরক্ষকের স্বাভাবিক গতিপথ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত হলে সেটি ফুটবলের আইন অনুযায়ী ফাউল হিসেবে গণ্য হয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে আইএফএবির আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেফারি। যদিও সমালোচকদের প্রশ্ন, ম্যাচজুড়ে একই ধরনের একাধিক সংস্পর্শের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোতে ফাউল না দিয়ে কেবল এই ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপ কেন— সেই ধারাবাহিকতার অভাবই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।


ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানও সিদ্ধান্তটির কড়া সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, "এটি শতভাগ বৈধ গোল ছিল। এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ হাস্যকর।" তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, জার্মানির মতো দলের ম্যাচটি টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়ানোও হতাশাজনক।


শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে। তবে ম্যাচ শেষ হলেও বিতর্কের ইতি ঘটেনি। জনাথান তাহর বাতিল হওয়া গোল এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ভিএআর সিদ্ধান্ত হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তাহির আহমদ/ সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: