নিজেদের ব্যয় অক্ষত রেখেই বাজেটে ব্যয় সংকোচনের দাবি বিরোধী দলের

নিজেদের ব্যয় অক্ষত রেখেই বাজেটে ব্যয় সংকোচনের দাবি বিরোধী দলের

প্রথম ডেস্ক

৩০/০৬/২০২৬ ১৯:৪৫:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় সংকোচনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বরাদ্দ কমানোর বিষয়ে কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব দেয়নি বিরোধী দল। বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৫৮টির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব জমা দেওয়া হলেও সংসদ সচিবালয় ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম।


বাজেটের মঞ্জুরি দাবির তালিকায় জাতীয় সংসদ খাত ছিল দাবি নম্বর-১। সংসদ কার্যে জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুকূলে সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা মঞ্জুরের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই অর্থের বিপরীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব না আসায় বিষয়টি ভোট ছাড়াই কার্যসূচিতে অগ্রসর হয়।


নির্দিষ্টকরণ বিলের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় হওয়ায় তা সংসদের ভোটের আওতার বাইরে। কেবল অবশিষ্ট ৭০ লাখ টাকাই ভোটে গৃহীত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এই অংশেও কোনো সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব আনেননি।


সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয়ের ওপর ভোট গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে সংসদ খাতের প্রায় পুরো বরাদ্দই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়। তবে ভোটযোগ্য অংশে আপত্তি জানানোর সাংবিধানিক সুযোগ থাকলেও বিরোধী দল তা ব্যবহার করেনি।


জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী বাজেট কোনো সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয় না। বাজেট উপস্থাপনের পর সাধারণ আলোচনা, মঞ্জুরি দাবি, ছাঁটাই প্রস্তাব, ভোটাভুটি এবং নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়েই বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কোনো খাতের নীতি, ব্যয়ের যৌক্তিকতা বা প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানোর প্রধান সংসদীয় উপায় হলো ছাঁটাই প্রস্তাব।


সংসদীয় বিধি অনুযায়ী ছাঁটাই প্রস্তাব তিন ধরনের। কোনো দাবির পরিমাণ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাবকে বলা হয় **নীতি অননুমোদন ছাঁটাই**, নির্দিষ্ট অঙ্ক কমানোর প্রস্তাব **মিতব্যয় ছাঁটাই**, আর কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘাটতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০০ টাকা কমানোর প্রস্তাবকে বলা হয় **প্রতীক ছাঁটাই**।


অন্যদিকে, সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিচালিত হয় **সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩** অনুযায়ী। একজন সাধারণ সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, যাতায়াত ভাতা, দপ্তর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, কাপড় ধোয়ার ভাতা, বিবিধ ব্যয়, টেলিফোন বিল এবং চিকিৎসা ভাতাসহ নিয়মিত বিভিন্ন সুবিধা পান। সব মিলিয়ে একজন সাধারণ সংসদ সদস্যের মাসিক আর্থিক সুবিধার পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।


এ ছাড়া অধিবেশন ও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ সুবিধা, ১০ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিবেচনামূলক অনুদানের ব্যবস্থাও রয়েছে।


সংসদ সদস্যদের এসব বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যয় সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।

সজল আহমেদ / প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন: