কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন: কফিন ছুঁয়ে স্বজনদের আর্তনাদ
চোখের জলে চিরবিদায় নিলেন মরুর বুকে স্বপ্ন খুঁজতে যাওয়া কানাইঘাটের পাঁচ তরুণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এই পাঁচ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল দুইটার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদ্রাসা মাঠে এক অভূতপূর্ব ও শোকাবহ পরিবেশে একসঙ্গে তাঁদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
একসঙ্গে পাঁচ তরুণের এমন অকাল ও নির্মম প্রস্থান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কানাইঘাটবাসী। জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পুরো উপজেলাজুড়ে এখন শুধুই কান্নার রোল, চারিপাশে নেমে এসেছে স্তব্ধতা।
নিহত প্রবাসীরা হলেন—ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ।
জানাজায় আসা এক প্রতিবেশী বলেন — সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বুকভরা আশা নিয়ে ওরা দেশ ছেড়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আজ ফিরল লাশ হয়ে। এই শোক সইবার শক্তি মা-বাবার নেই।
এর আগে আজ সকালে পাঁচ প্রবাসীর কফিনবন্দী লাশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যখন পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স সারিবদ্ধভাবে কানাইঘাটের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার বাতাস। কফিন জড়িয়ে ধরে মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের বারবার মূর্ছা যাওয়ার দৃশ্য উপস্থিত সবার চোখেই জল এনে দেয়। যে হাতগুলো একসময় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাত, সেই নিথর দেহগুলোকে কাঁধে নিয়ে স্বজনেরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পুরো আকাশ-বাতাস যেন থমকে গিয়েছিল।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আজ সব স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে নিজ দেশের মাটিতে চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে গেলেন তাঁরা।
তাহির আহমদ/ সজল আহমদ
মন্তব্য করুন: