টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচাতে সুনামগঞ্জে জরুরি পরামর্শ সভা
বিশ্ব ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার জোর দাবি উঠেছে। একই সাথে হাওরের মাছের অভয়াশ্রম বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফেরাতে অনতিবিলম্বে খাল-বিল খননের তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় অংশীজনেরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে 'কমিউনিটি বেসড ম্যানেজমেন্ট অব টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়েটল্যান্ড ইকোসিস্টেম' প্রকল্পের আওতায় "Consultation on Wise-use of Wetland Resources" শীর্ষক এ নীতি নির্ধারণী পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি পরিবেশ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (GEF) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আমিনুর রহমান, সিএনআরএস (CNRS)-এর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এডভাইজর মোহাম্মদ ফজলে আরাফাত, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং ইউএনডিপি (UNDP) প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন ও প্রোগ্রাম ক্লাইমেট স্পেশালিস্ট শাহজাদী সুলতানা শাহিন। কর্মশালায় টাঙ্গুয়ার হাওর প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ওপর মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা ল্যাবরেটরির উপ পরিচালক শাহেদা বেগম।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে হাওর রক্ষায় নানা গঠনমূলক পরামর্শ দেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মতিউর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস চন্দ্র শীল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান, জেলা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মোহাইমিনুল হক, আনসার ও বিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট মোরশেদা খানম, অধ্যক্ষ (অব:) শেরগুল আহমেদ, সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, সাংবাদিক খলিল রহমান, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক, সাংবাদিক গিয়াস চৌধুরী, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, সদর উপজেলা স্কাউট সম্পাদক বুরহান উদ্দিন এবং টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের কৃষক নুরুল আলম।
সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশ অবক্ষয়ের পেছনে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, অনিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার এবং পলি জমে বিলে পানিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়।
এ সংকট উত্তরণে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেবল কাগজ কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না, মাঠে প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা বাড়াতে হবে। একই সাথে প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধে কড়া নজরদারি, 'কমিউনিটি গার্ড' প্রথার কার্যকর প্রয়োগ, এবং হাউসবোট চালকদের পরিবেশবান্ধব আচরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান আশ্বাস দিয়ে বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের জাতীয় সম্পদ। হাওরের ভারসাম্য বজায় রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় প্রাপ্ত মতামতগুলো গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: