বড়লেখার মাধব ছড়ায় মাছ শিকারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

বড়লেখার মাধব ছড়ায় মাছ শিকারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

১৬/০৯/২০২৬ ২০:৩৮:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধব ছড়ায় ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে পুটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরছে বলে স্থানীয়দের দাবি। একই সঙ্গে ছড়ার পানির প্রবাহের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি মাধব ছড়ার পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেন। এর ফলে ছড়ার পানিতে থাকা পুটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ, মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। পরে পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায় বলে অভিযোগকারীরা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন আহমদ, হামিদ আহমদ, মাসুক আহমদ ও রুবেল আহমদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, মাধব গাঙ্গ (ছড়া) স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেখানে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে শুধু মাছ নয়, ব্যাঙ, সাপ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিশেছে। ফলে ছড়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ পানির সঙ্গে হাওরের জলজ পরিবেশে পৌঁছালে সেখানকার মাছ, পোনা ও অন্যান্য প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

বৃহত্তর জলাভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে অভিযোগকারীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রসিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ফাত্তাহ, মনির উদ্দিন ও হামিদ আহমদসহ স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব প্রথম সিলেটকে বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।”

হিফজুর রহমান / নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad