জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন কোচ
পর্তুগালের জার্সিতে আবারও মাঠে নামতে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উয়েফা নেশন্স লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে ৪১ বছর বয়সি এই তারকাকে একাদশে রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুস।
ম্যাচের আগে ‘অসাধারণ কিছু’ না ঘটলে বৃহস্পতিবার রোনালদো খেলবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হারের পর এটাই পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোরও এটি হবে প্রথম ম্যাচ। বিশ্বকাপে তিনটি গোল করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে দুটি ছিল গ্রুপপর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।
রোনালদোকে জাতীয় দলে রাখা নিয়ে অবশ্য আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, পর্তুগালের একাদশে রোনালদো না থাকলে দল আরও উপকৃত হতে পারে। তবে এসব সমালোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না জেসুস। গত মৌসুমে রোনালদোর সঙ্গে আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতানো এই কোচ তার ওপর আস্থা রাখছেন।
জেসুস বলেন, ক্রিস পর্তুগালের প্রতীক। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাকে প্রতিটি ম্যাচ খেলতেই হবে। আমরা তাকে ছাড়া হংকংয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলাম, সেখানে দর্শক ছিল ৫ হাজার। আর সে খেললে দর্শক হয়েছিল ৫৫ হাজার। সে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলবে। আমি আশা করি, সে একটি বা দুটি গোল করবে এবং আমি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে তুলে নেব।
জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রোনালদো। সমালোচনা বা বয়স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মাঠে অবদান রাখাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
রোনালদো বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাঠে থাকতে পারা, গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সহায়তা করা। কোচ যদি আমাকে না চান, তাহলে আজই চলে যেতে পারি—কোনো সমস্যা নেই। যখন মনে হবে আমি এখানে কোনো ভূমিকা রাখছি না, মাঠে অবদান রাখছি না, গোল করছি না কিংবা তারা আমাকে এখানে চায় না, তখন ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়া প্রথম ব্যক্তি আমিই হব।
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর ২৩৩ ম্যাচে গোল ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ ও গোল—দুটিতেই এটি রেকর্ড। তার নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৮-১৯ ও ২০২৪-২৫ নেশন্স লিগের শিরোপা জিতেছে।
ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলা রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে আরও একটি নেশন্স লিগের শিরোপা জিততে চান। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে সেই নতুন অভিযাত্রা।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: