আজমিরীগঞ্জে খাস জমি ও কৃষি জমি থেকে অবাধে মাটি উত্তোলন
Led Bottom Ad

পরিবেশ ও সড়ক হুমকিতে

আজমিরীগঞ্জে খাস জমি ও কৃষি জমি থেকে অবাধে মাটি উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১৬/১২/২০২৫ ১৪:০৪:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি, নদীর পাড়, চরাঞ্চল ও ফসলি কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভেকু মেশিন ব্যবহার করে রাতভর মাটি কেটে তা ট্রলি ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিবহন করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অবৈধভাবে উত্তোলিত মাটি প্রতি ট্রলি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রতি ট্রাক্টর ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাটি নিচু জমি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে স্থানীয়ভাবে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গুইয়ারবন্দ হাওড়, পৌরসদরের বাঁশমহাল এলাকার নদীর পাড় ও চরাঞ্চল, বদলপুর ইউনিয়নের ঝিলুয়া হাওড়, পাহাড়পুর সদর ও কাটাকালি হাওড়, কাকাইলছেও ইউনিয়নের ঘরধাইর ও শিবাপাশা-ঘরধাইর হাওড়, রসুলপুর ও জলসুখা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওড়সহ অন্তত ২০টির বেশি স্পট থেকে প্রতিরাতে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

অবৈধ মাটি উত্তোলনের ফলে একদিকে পরিবেশ আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কৃষি জমির উপরিভাগেই মাটির প্রধান জৈব গুণাগুণ থাকে। এই স্তর নষ্ট হলে জমির উর্বরতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত নামলেই মাটি বোঝাই ট্রলি ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দে এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মাটি উত্তোলনকারী চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা জানান, মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল ও নদীর পাড় কেটে নেওয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জরুরি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি অবগত হয়েছি। অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad