নিবন্ধন বাতিল তবুও সক্রিয়
সুনামগঞ্জে অদম্য সমবায় সমিতির আড়ালে কার ছায়া?
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নিবন্ধনবিহীন এক সমবায় সমিতির ‘মায়াজাল’ ও প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন কয়েকশ সাধারণ মানুষ। ‘অদম্য ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি’ নামের ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র ঋণের নামে গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, ভুক্তভোগী নারীদের সাথে প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন থেকে একটি সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ‘অদম্য ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি’ নামে কার্যক্রম শুরু করে একটি চক্র। নাম সর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি নিবন্ধন না থাকলেও, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তারা স্থানীয় বেকার যুবক যুবতীদের মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ডিপিএস ও সঞ্চয় প্রকল্পের নামে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
রোববার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে জড়ো হওয়া ভুক্তভোগীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সর্বস্ব খুঁইয়ে তারা এখন দিশেহারা।
ভুক্তভোগী ফাহিমা (ছদ্মনাম) কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “টাকা জমা রাখা তো দূরের কথা, হিসাবের কথা বলে অফিসে ডেকে নিয়ে আমার মতো অনেকের সঙ্গেই তারা অনৈতিক আচরণ করেছে। আমরা মান-সম্মান নিয়ে ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। এখন টাকাও নেই, সম্মানও হুমকির মুখে।
অভিযোগের তীর এখন মৌলভীবাজার থেকে আসা একটি চক্র এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী শিবপুরের রায়হান ও জুয়েল আহমদের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটিই নেপথ্যে থেকে পুরো প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমা জানান, সমিতিটির কার্যক্রমের অনিয়ম ধরা পড়লে ২০২৫ সালের নভেম্বরেই তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এরপরও তারা গোপনে কার্যক্রম চালিয়েছে, যা আমাদের নজরদারির বাইরে ছিল।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, একটি নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পরও প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে তারা মাসের পর মাস আর্থিক কার্যক্রম চালিয়ে গেল এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করল?
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। যারা গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ভুক্তভোগীরা এখন দ্রুত এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে তাদের জমাকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: