গরম ও লোডশেডিংয়ের দাপট
সিলেটে রিচার্জেবল ফ্যান-লাইটের বাজারে অস্থিরতা
সিলেটে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং, আর এই সুযোগে রিচার্জেবল ফ্যান ও লাইটের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ১৪ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। শনিবার সামান্য বৃষ্টিপাত ও রবিবার আকাশ মেঘলা থাকলেও ভ্যাপসা গরম ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জিং পণ্যের চাহিদা এখনো আকাশচুম্বী।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সিলেটের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও আম্বরখানাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রিচার্জেবল ফ্যান মানভেদে ৩০০০ থেকে ৮৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফ্যানের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া সাধারণ সিলিং ফ্যানের দামও বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। রিচার্জেবল লাইট বর্তমানে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকায় এবং ফ্যানের ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, গরম থেকে বাঁচতে মানুষ এসব পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে জেনে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন। জিন্দাবাজারের বাসিন্দা সতী দাস জানান, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধার্থে বাড়তি দামে চার্জিং ফ্যান ও লাইট কিনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বন্দরবাজারের এস আর ইলেকট্রনিকের পরিচালক রুহেল আহমদ জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ সংকটের কারণে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক সময় কোম্পানিকে নগদ টাকা দিয়েও চাহিদামতো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং ও ভ্যাপসা গরমের এই দ্বিমুখী সংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর কোনো তদারকি আপাতত চোখে পড়ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই বাড়তি খরচের চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: