আগাম বন্যার আতঙ্ক ও শ্রমিক সংকট
ছাতকে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
চৈতি বৃষ্টি, কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বোরোচাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আগাম বন্যার সর্তকতা। সুরমা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল নামার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ছাতকে ১৪ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৬৫ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে বর্তমানে ডেকার হাওর, নাইন্দার হাওর ও চাউলির হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকায় ধান কাটতে কৃষকদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে। পাউবো আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিলেও শনিবার পর্যন্ত উপজেলায় মাত্র ২ হাজার ৭৬৬ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি হারভেস্টার মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের স্বল্পতা কৃষকদের দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, মাঠের ধান এখন ৮০ ভাগ পর্যন্ত পেকে গেলেও একদিকে পাহাড়ি ঢলের ভয়, অন্যদিকে কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকরা আসলেও বর্তমানে যান্ত্রিকীকরণের ফলে সেই সংখ্যা কমে গেছে। ফলে অনেক কৃষক ভাড়ায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু পাম্পগুলোতে ডিজেল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় ধান কাটার গতি ধীর হয়ে পড়েছে। আবদুর রহমান ও সুজন মিয়ার মতো কৃষকদের শঙ্কা, দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে পাহাড়ি ঢলে তাঁদের সারা বছরের স্বপ্ন মুহূর্তেই তলিয়ে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিংহভাগ ধান কাটার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে এবং হারভেস্টার মেশিনগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতে পাম্পগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের মতে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা এবং কাটার পর তা শুকানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদি অতি দ্রুত বড় ধরনের স্বেচ্ছাসেবক দল বা যান্ত্রিক সহায়তা বাড়ানো না যায়, তবে অকাল বন্যায় ফসলহানির প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: